রাজধানীর মিরপুরে রাজউকের অনুমোদিত নকশা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এই অনিয়মের সঙ্গে রাজউকের দুই কর্মকর্তা—অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ ও ইমারত পরিদর্শক মোহাম্মদ মোহনের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সংস্থাটির ভূমিকা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিরপুর-০২ এর মনিপুর এলাকায় অবস্থিত বাসা নং-৭৯৭-এ একটি ভবন অনুমোদিত নকশার তোয়াক্কা না করেই নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সৈকত হোসেনের ছেলে শাহিনুর রহমান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, নকশাবহির্ভূত নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বড় অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অবৈধ নির্মাণ শুধু নগর পরিকল্পনাকে ভেঙে দিচ্ছে না, বরং ঢাকাবাসীর জীবনকেও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তা ব্যক্তিস্বার্থে বিধিমালা লঙ্ঘন করে নগর ব্যবস্থাপনাকে বিপর্যস্ত করে তুলছেন।
এদিকে রাজউক সূত্র জানায়, ভবনটিতে ব্যত্যয় অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্মাণকারী পক্ষ হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে আদালত থেকে স্থিতাবস্থা জারি হয়। সেই সুযোগে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ দাবি করেন, স্টে অর্ডার বাতিলের জন্য বিষয়টি আইন শাখায় পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই বক্তব্য দেন ইমারত পরিদর্শক মোহাম্মদ মোহন, যিনি বলেন, মামলার সারসংক্ষেপ আইন শাখায় পাঠানো হয়েছে এবং প্রক্রিয়া চলমান।
অন্যদিকে ভবনের নির্মাণকাজে যুক্ত প্রকৌশলী পাভেল হোসাইন জানান, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই কাজ এগোচ্ছে।
তবে অভিযোগকারী শাহিনুর রহমানের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যা প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তারা ধারাবাহিকভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ তদন্ত হলে দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র এবং অবৈধ সম্পদের উৎস উন্মোচিত হবে।
Leave a Reply